
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামোয় নতুন করে সামরিক অভিযান চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমা ‘মাদার অব অল বম্বস’ ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মাটির গভীরে সুরক্ষিত ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংসে এই বোমার কার্যকারিতা সীমিত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন অভিযানের নির্দেশ দিলে অস্ত্রটি ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সামরিক পরিভাষায় জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট বা এমওএবি নামে পরিচিত বোমাটির ওজন প্রায় ৯ হাজার ৮০০ কেজি। এতে প্রায় ৮ হাজার ৫০০ কেজি বিস্ফোরক রয়েছে। দৈর্ঘ্য ৯ মিটারের বেশি হওয়ায় এটি বহন ও নিক্ষেপে বিশেষ ধরনের পরিবহন বিমান প্রয়োজন হয়। বোমাটি নিক্ষেপের জন্য সি-১৩০ হারকিউলিস কার্গো বিমান ব্যবহার করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ২০১৭ সালে আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রভিন্সের (আইএসকেপি) গুহা ও সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক লক্ষ্য করে প্রথমবারের মতো বাস্তবে এমওএবি ব্যবহার করে। আফগান কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, ওই বিস্ফোরণে ৯৪ জন জঙ্গি নিহত হন। তবে বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন তথ্যও সামনে এসেছিল।
এমওএবি মাটিতে আঘাত করার আগেই ভূপৃষ্ঠের কয়েক ফুট ওপরে বিস্ফোরিত হয়। এতে তীব্র বিস্ফোরণ, অগ্নিশিখা ও অভিঘাত তরঙ্গ তৈরি হয়, যা উন্মুক্ত স্থানে থাকা সেনা, সামরিক সরঞ্জাম ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে। পাহাড়ের গুহা বা সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখ ধ্বংস করতেও এটি কার্যকর হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, বোমাটি ভূগর্ভের গভীরে থাকা স্থাপনা ধ্বংস করতে সক্ষম।
ব্রাসেলসভিত্তিক সামরিক বিশ্লেষক ইলাইজা মানিয়ের মতে, ইরানের ফোরদো পারমাণবিক কেন্দ্র কিংবা পাহাড়ের গভীরে নির্মিত স্থাপনা ধ্বংসে এমওএবি যথেষ্ট কার্যকর নয়। এ ধরনের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে জিবিইউ-৫৭ ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর বা এমওপি। প্রায় ১৩ হাজার ৬০০ কেজি ওজনের এই বাংকার-বাস্টার বোমা শক্ত মাটি ও শিলার গভীরে প্রবেশ করে বিস্ফোরণের জন্য তৈরি।
এমওএবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরেকটি বড় বাধা হলো ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। বোমাটির বিশাল আকারের কারণে এটি স্টিলথ বোমারু বিমানে বহন করা যায় না। ফলে ধীরগতির সি-১৩০ পরিবহন বিমানকে ইরানের আকাশসীমায় নিয়ে গিয়ে বোমা নিক্ষেপ করা বড় ধরনের সামরিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এমওএবি দিয়ে ইরানের ভূ-পৃষ্ঠের সামরিক স্থাপনা ও প্রতিরক্ষা অবকাঠামোর ক্ষতি করা সম্ভব হলেও দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংসের লক্ষ্য অর্জন অনিশ্চিত। তাই এই বোমার ব্যবহার সামরিক লক্ষ্য অর্জনের পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার কৌশল হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।